পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দেশের কসমেটিকস, স্কিন কেয়ার ও পারসোনাল কেয়ার শিল্পে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকার এই খাতকে শুধুমাত্র আমদানি-নির্ভর বাজার হিসেবে বিবেচনা না করে এটিকে উৎপাদন, রপ্তানি ও বিনিয়োগের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের যে উৎপাদন সক্ষমতা, কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও বৈশ্বিক ক্রেতা-সম্পর্ক রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে কসমেটিকস খাতেও কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ফর্মুলেশন, বিশেষায়িত প্যাকেজিং এবং মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সার্টিফায়েড বোটানিক্যাল ও হারবাল উপাদানের একটি শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করা গেলে তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক বাজারেও রপ্তানির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ থেকে ‘ফরমুলেটেড, ডেভেলপমেন্ট এবং ব্র্যান্ডিং ইন বাংলাদেশ’-এর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি তৈরি করা গেলে এই খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান ও ভারতসহ ১৬টি দেশের প্রখ্যাত প্রসাধনী ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে শতাধিক পণ্যের স্টল, লাইভ ডেমো, বিউটি কনসালটেশন এবং স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তারাও কসমেটিকস ও টয়লেট্রিজ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ার ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ইন্ডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএএ)-এর সভাপতি বাহারুল মনসুর অনুষ্ঠানে বলেন, কসমেটিকস ও পারসোনাল কেয়ার খাতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রতিবছরই বাড়ছে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। সেনসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সিনিয়র পারফিউমার ফ্রাংক কেন্টন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার, তবে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি।
সাচিরোম লিমিটেডের পরিচালক ধ্রুব অরোরা জানান, গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং মানসম্পন্ন পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও এস এম ফয়সাল মুনিম বলেন, এই প্রদর্শনী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি ক্রসম্যাচিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এই শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
