জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শাখাকে আলাদা করার মাধ্যমে করদাতাদের ভীতি ও হয়রানি দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী দেশের কর ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও তা উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্বীকার করেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। এই ভীতি দূর করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, করদাতারা মূলত অডিট বা নিরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয়ে করের আওতায় আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য এনবিআরের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে পুরো কর ব্যবস্থাকে বিভাজন বা বাইফারকেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এনবিআরের যে কাঠামো রয়েছে, সেখানে নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব একই জায়গায় থাকায় দুর্নীতির সুযোগ ও প্রভাব খাটানোর অবকাশ থেকে যায়।
এই দুটি বিভাগকে আলাদা করে দিলে দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, করদাতাদের ভয়ভীতির পেছনে শুধু অডিটের বিষয় নয়, বরং আরও অনেকগুলো বাধা রয়েছে যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। কর-জিডিপি অনুপাতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই অনুপাত অত্যন্ত কম।
বিগত দিনগুলোতে কর ব্যবস্থা সহজীকরণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অভাব ছিল, যার ফলে দেশ এই সূচকে পিছিয়ে পড়েছে। সরকার এখন কর ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব সহজ করার দিকে মনোযোগী হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কর ব্যবস্থা সহজ ও স্বচ্ছ হলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদানে এগিয়ে আসবে। করদাতাদের হয়রানি রোধ এবং কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য নিরলস কাজ করছে।
কর নীতি প্রণয়নকারী এবং বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আলাদা করার মাধ্যমে করদাতাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি জানান, করদাতারা যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই সহজে কর প্রদান করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। কর ব্যবস্থার এই সংস্কারের ফলে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়বে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, করদাতাদের হয়রানি বন্ধ করা এবং কর প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, এনবিআরের এই কাঠামোগত পরিবর্তন কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভীতি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এই সংস্কারের মাধ্যমে কর প্রশাসন আরও গতিশীল হবে এবং করদাতারা তাদের কর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবেন। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণা কর ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। করদাতাদের হয়রানি কমিয়ে করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, এটি তারই একটি অংশ।
