দেশের বাজারে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার এই দুই পণ্য আমদানিতে শর্তসাপেক্ষে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এনবিআর-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব গত ৩০ আগস্ট এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫-এর উপধারা (১) এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ১২৬-এর উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে সরকার এই বিশেষ সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে শুল্ক অব্যাহতির বিষয়টি দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ৩০ দিনের জন্য আমদানিকারকরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানিতে প্রযোজ্য কাস্টমস শুল্কের ক্ষেত্রে মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অংশ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি এবং মূল্যভিত্তিক ১০ শতাংশের অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক থেকেও আমদানিকারকদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ ৩১তম দিন থেকে ৬০তম দিন পর্যন্ত অব্যাহতির শর্ত কিছুটা পরিবর্তিত হবে। এই সময়ে কাস্টমস শুল্কের ক্ষেত্রে মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অংশ এবং সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি থেকে অব্যাহতি বহাল থাকবে। তবে এই দ্বিতীয় ৩০ দিনের মেয়াদে সম্পূরক শুল্কের অব্যাহতির সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে অতি বৃষ্টির কারণে ফসলের মাঠ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মূলত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া টমেটো মূলত একটি শীতকালীন সবজি হওয়ায় বছরের অন্য সময়ে এর উৎপাদন কম থাকে, যার ফলে বছরের এই সময়ে টমেটোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সরকার আশা করছে, আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির ফলে ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে উৎসাহিত হবেন।
এর ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। এনবিআর-এর এই সিদ্ধান্তটি মূলত বাজার স্থিতিশীল করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৬০ দিনের এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তবে বর্তমানে বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে এই শুল্ক ছাড় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আমদানিকারকরা এখন থেকে এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে পণ্য আমদানি করতে পারবেন, যা সরাসরি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
