বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার তাদের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারা খোসরোশাহী কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। উবারের সাম্প্রতিক এসইসি নথি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৪ হাজার কর্মী কর্মরত রয়েছেন।
সেই হিসাবে এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন কর্মী তাদের চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ৭০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এত বিশাল পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিচ্ছে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে।
দারা খোসরোশাহী তার বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, কর্মীসংখ্যা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই ছাঁটাই করা হচ্ছে। তিনি জানান, এর ফলে দায়িত্বের বণ্টন আরও স্পষ্ট হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া সমন্বয়ের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনে প্রতিষ্ঠানটি বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত উবার শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। প্রচলিত ট্যাক্সি সেবার বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। সময়ের সাথে সাথে উবার তাদের ব্যবসার পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি খাবার সরবরাহ, খুচরা পণ্য সরবরাহ এবং স্বল্প দূরত্বে কুরিয়ার সেবার মতো খাতেও প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছে।
তবে বিভিন্ন দেশে উবারের চালকদের পারিশ্রমিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। অনেক চালক দাবি করেছেন যে, তাদের শ্রম এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের তুলনায় তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি উবার কিছু দেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। বুধবার প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে তানজানিয়া থেকেও উবার তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল। উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অংশ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় তা নিশ্চিত করা। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যয় সংকোচন ও কার্যপদ্ধতি পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উবারের এই বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী রাইড শেয়ারিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মূল ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন এনে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
