রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। যে তিনটি ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হলো অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এবং বেসিক ব্যাংক।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপ-সচিব আফরোজা আক্তার রিবা। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান খানের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি প্রদান করেছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। একই নিয়ম অনুসরণ করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ বাতিলের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এই তিন ব্যাংকের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ সরকারের পরামর্শ ও সম্মতির ভিত্তিতে এমডি নিয়োগ বা তাদের চুক্তি বাতিল করতে পারে।
সেই ধারাবাহিকতায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন তাদের নিজস্ব আইন ও চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী নিয়োগ বাতিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব আসার পথ প্রশস্ত হলো। আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে নিয়োগ বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নতুন এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। এই তিন ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি দেশের আর্থিক খাতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময় এমন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন তাদের পরবর্তী বোর্ড সভায় এই প্রজ্ঞাপনের আলোকে নিয়োগ বাতিলের আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করবে। এরপর ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বা নতুন নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের এই নির্দেশনার পর ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা অনুযায়ী, সরকার জনস্বার্থে যেকোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই ক্ষমতার বলেই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পর্ষদ এখন তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী এমডি নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
এই পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা যেন তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে এই পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও, প্রশাসনিকভাবে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনার পর ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন তাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে।
